(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

ঢাকা, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি -২০২৩ :

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টি একটি নির্বাচনমুখি দল। এই মুহুর্তে নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। কেউ চাচ্ছেন সংবিধান অনুযায়ি নির্বাচন হবে, আবার কেউ চাচ্ছেন কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচন। আমরা কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচন বিশ্বাস করি না। নির্বাচিতরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে, কেয়ারটেকার সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন তার গ্যারান্টি নেই। তিনি বলেন ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বক্তব্যে প্রমাণ করেছে ঐ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। যদি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য ভালো থাকে এবং সরকার যদি চায় তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে। নির্বাচন বিশ^াসযোগ্য করতে সরকারকে ভুমিকা নিতে হবে। নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি আসন শুন্য হয়েছে, আমরা সেই উপ-নির্বাচনে অংশ নেব। জাতীয় পার্টি তিনশো আসনেই নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নির্বাচনের আগে পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের সাথে এক যৌথ সভা শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন মোঃ মুজিবুল হন চুন্নু এমপি।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু আরো বলেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। জাতীয় পার্টিতে কোন বিভেদ নেই। তিনি বলেন, আজ সকালেও বিরোধীদলীয় নেতা ও পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ এমপির সাথে কথা হয়েছে। আজকের যৌথ সভায় এরশাদ পুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ অংশ নিয়েছেন। এছাড়া, বহিস্কৃতদের ব্যাপারে যৌথ সভায় আলোচনা হয়েছে। বহিস্কৃতদের বিষয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, যারা ক্ষমার অযোগ্য সাংগঠনিক বিশৃংখলা করেছে তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।

এসময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব আরো বলেন, একটি সিভিল মামলার কারণে পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি অনেক দিন ধরে প্রেসিডিয়ামের সভা আহবান করতে পারেননি। কিছু দিন আগে মহামান্য হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায়, মাননীয় চেয়ারম্যান এখন মুক্ত। তাই একটি যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের আগেই আমরা জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করতে পারবো। এর আগে সকল জেলা সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করা হবে। প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে বড় সমাবেশ করা হবে। একই সাথে সারাদেশেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে প্রার্থী ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।

এর আগে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যৌথ সভা পরিচালনা করেন পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

যৌথ সভায় বক্তৃতা করেন, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা, এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম এমপি, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এ.টি.ইউ.তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, আব্দুর রশীদ সরকার, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, এডভোকেট মো: রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মোঃ মিজানুর রহমান, সৈয়দ দিদার বখ্ত, নাজমা আখতার এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, জহিরুল আলম রুবেল, সংসদ সদস্যদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, নুরুল ইসলাম তালুকদার, পনির উদ্দিন আহমেদ, আহসান আদেলুর রহমান, শেরীফা কাদের, রাহগীর আল মাহি (সাদ এরশাদ)।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর
প্রেস সেক্রেটারি-০২।