প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০২৩ঃ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোভাব কিছুটা নরম করতে হবে। নির্বাচনের জন্য সরকারের সংলাপের ব্যবস্থা করা উচিত। এজন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচনে সবার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত না হলে, বোঝা যায় না নির্বাচন সঠিক নাকি বেঠিক হলো। সেজন্যই আমরা অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সবার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারকে কিছু ছাড় দিতে হবে। নির্বাচন নিয়ে আমাদের একটি ফর্মূলা আছে, সবার পরামর্শ চাইলে আমরাও পরামর্শ দেবো। প্রতিটি নির্বাচন যেনো সুষ্ঠু হয়, দিনের ভোট যেনো রাতে না হয় এবং জোর করে যেনো ফলাফল ঘোষণা করা না হয় সেজন্য নেয়া সকল সিদ্ধান্তের সাথে আমরা আছি। এই মুহুর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই কঠিন, কেউ জানেনা কি হতে যাচ্ছে। কিছু বিদেশী শক্তি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে আবার কিছু বিদেশী শক্তি সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আসেনি। আমরা ক্ষমতার জন্য লড়াই করবো না, আমরা জনগণের স্বার্থের জন্যই লড়াই করবো। দেশের জনগণই আমাদের ক্ষমতায় নিয়ে যাবে। আজ দুপুরে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবে, কে এলো আর কে এলো না সেটা কোন ব্যাপার না। এটা কিন সঠিক সিদ্ধান্ত ? এটা কী দেশবাসী চায় ? আবার বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাবে না। বলা বড়ই মুশকিল, এটা কি সঠিক ? যদি বিএনপি পরাজিত হয় তাহলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে আওয়ামী লীগও অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একটি যু্েদ্ধর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমরা কারো কাছে যাবো না, আমরা তিনশো আসনেই নির্বাচন করবো। কারো ক্ষমতার সিড়ি বা বি-টিম হবো না আমরা।

জিএম কাদের আরো বলেন, ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে যমুনা সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য যমুনাসেতু নির্মানের ব্যবস্থা করেছিলেন। জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় এবং বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করেছেন যমুনা সেতুর জন্য। যমুনা সেতু নির্মানের বিষয়ে এরশাদ সাহেব এর কথা স্বীকার করতে চায় না সরকার। যমুনা সেতু নির্ধারিত ব্যায়ে এবং নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। যমুনা সেতু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান। এরশাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যমুনা সেতুর রেল লাইন বগুড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে হবে। এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়বো।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে শেয়ার বাজার ধসে লাখ লাখ মানুষ পাথে বসে গেলো, অনেকে আত্মহত্যা করলো। আওয়ামী লীগ সরকার তখন তদন্ত করেছিলো। তখন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালীর নাম উঠেছিলো, কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। শেয়ার কেলেংকারিতে কারো শাস্তি হয়নি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হলো এক মাস সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিলো। ফিলিপাইনের ব্যাংকে এই টাকা জমা হওয়ার পর সেই দেশের গণমাধ্যম রিপোর্ট করায় আমরা জানতে পেরেছি। তখনো তদন্ত করা হয়েছিলো, সেই তদন্ত রিপোর্ট আমরা জানিনা। কাউকে শাস্তি দেয়া হয়েছে কিনা তাও আমরা জানিনা। ৪শো মিলিয়ন ডলারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই নির্মান করা হয়েছে। ১৫ বছর এটির লাইফ টাইম কিন্তু কোন আয় ছিলো না। আয় করার জন্য দেশের টেলিভিশন কোম্পানীগুলোকে অতিরিক্ত ফিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারপরেও এটি লস প্রকল্প, কিন্তু সরকার নাকি আরো একটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই নির্মান করতে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করেছে। রুপপুরের পরে নাকি আরো একটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র করা হবে। ৫/৬ বিলিয়ন ডলারের স্থলে ১৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হচ্ছে একেকটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে। মনে হচ্ছে দুর্নীতির জন্যই বড় বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য উর্ধগতির কারনে দেশের মানুষ মারাত্মক কষ্টে আছে। আমাদের আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি, তাই রির্জাভ কমে গেছে। প্রবাসীরা হুন্ডিতে দেশে টাকা পাঠায় আবার রফতানীও কমে গেছে। লুটপাট আর অদক্ষতার কারেেন দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলছে। আয় না বাড়লেও ব্যায় কিন্তু বেড়েই চলছে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি জন্মষ্টমীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। তাদের সাবর্কি নিরাপত্তায় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। সংখ্যালঘুদের জন্য কল্যাণ ট্রাষ্ট করেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। জাতীয় পার্টির দেশ পরিচালনার সময় সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে নিরাপদে ছিলেন। আবুল বারাকাত এর একটিন গবেষনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হিন্দুদের জমি ও সম্পদ দখল করেছে। জাতীয় পার্টি কারো সম্পদ দখল করেনি। কিন্তু সংখ্যালঘুদের কিছু নেতা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে দুর্নাম ছড়াচ্ছে। আইন ও শালিস কেন্দ্রের জরিপের ফল অনুযায়ী গেলো ১৫ বছরে হিন্দুদের জমি দখল, অত্যাচার, নির্যাতন, মন্দির ভাংচুরের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত। ক্ষমতাসীনরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে কিন্তু তাদের নেতারা ক্ষমতাসীনদের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে সকল দোষ জাতীয় পার্টির ওপর দেয়। জাতীয় পার্টি মনে করে সভ্য সমাজ গড়তে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি। শারদীয় দূর্গা উৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর

প্রেস সেক্রেটারি -০২