(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

জাতীয় পার্টির প্রেম দেশের সাধারণ মানুষের সাথে- মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ : জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমানুষের ওপর আস্থা আর গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ এর স্থলে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পল্লীবন্ধু সব সময় সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছিলেন। কিন্তু, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ জাতীয় পার্টির সাথে অবিচার করেছিলেন। সকল রাজনৈতিক অধিকার থেকে জাতীয় পার্টিকে বঞ্চিত করেছিলো ১৯৯১ সালের নির্বাচনে। কিন্তু দেশ ও মানুষের ভালোবাসায় সেই নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে নির্বাচিত হয়েছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকেই ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বলে- সেনাশাসক থেকে রাজনীতিতে এসে সবাই নির্বাসিত হয়েছে অথবা ফাঁসির কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম হচ্ছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মানুষের ভালোবাসায় আমৃত্যু রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতির্ষ্ঠিত করেছে। জেলে থেকে নির্বাচন করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন পল্লীবন্ধু এরশাদ।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে “সংবিধান সংরক্ষণ দিবস” উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে আর নয়। বড় কোন দলের সাথে জাতীয় পার্টি প্রেম করবে না। জাতীয় পার্টির প্রেম দেশের সাধারণ মানুষের সাথে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির নীতিগত অনেক অমিল আছে। অনেক ইস্যুর কারণে তারা এক টেবিলে বসতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তাদের মধ্যে চরিত্রগত কোন অমিল নেই। ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুর্ণীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজী এবং টেন্ডারবাজী আর দলীয় করণের মাধ্যমে দেশের শান্তি শেষ করেছে। দেশের মানুষ তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দুটি দলের ওপর দেশের মানুষ বিরক্ত হয়ে আছে।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু আরো বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এক ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান, তিনিই আইন সভারও প্রধান আবার রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগও অনেকটাই তার হাতে। বিপুল ক্ষমতা একজনের হাতে থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকেনা। আবার ভুল ত্রæটিও বেশি হয়। একজনের হাতে সকল ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রের কোন ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা থাকে না। তিনি বলেন, দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষ সুশাসন পায়নি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হেরে বিএনপি বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তিনি বলেন, শুধু আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনে শুধু প্রতীক থাকবে কোন প্রার্থী থাকবে না। তাই, এই নির্বাচনে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য হবার সুযোগ থাকে না। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দেশে আনুপাতিক হারে নির্বাচন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে। বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ফেরেস্তা নিয়োগ করলেও বর্তমান সিষ্টেমের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

সভাপতির বক্তৃতায় মুজিবুল হক চুন্নু আরো বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোন অনৈক্য নেই। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। তিনি বলেন, কিছু নেতা চলে গেলেও জাতীয় পার্টির ক্ষতি হবে না। জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন এবং লাখ লাখ সাপোর্টার গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর ওপর আস্থা রাখে। দেশের সুশীল সমাজে জাতীয় পার্টি আস্থার অবস্থান সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে বহিস্কৃত কেউ মামলা করলে জাতীয় পার্টির কোন সমস্যা হবে না। জাতীয় পার্টি আদালতের ওপর আস্থাশীল। আমরা আশা করছি, উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাবো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহিস্কৃতদের মধ্যে যারা ক্ষমারযোগ্য অপরাধ করেছে তারা ক্ষমা চাইলে পার্টি চেয়ারম্যান বিবেচনা করবেন। কিন্তু যারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে, তাদের ক্ষমা করার প্রশ্নই আসেনা।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, গেলো ১০ বছরে ৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকার, শেয়ার বাজারে লুট হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ২৮ লাখ কোটি টাকার দুর্ণীতি হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তাছাড়া, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে, গণমাধ্যম কর্মীরা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, কোন ষড়যন্ত্রে জাতীয় পার্টির ঐক্য নষ্ট হবে না। জাতীয় পার্টির মাঝে কেউ বিভাজন সৃষ্টি করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাঙ্গল সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। দেশের মানুষ কষ্টে আছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, দুর্নীতি রোধ করতে কঠিন শাস্তির বিধান করতে হবে। কঠিন শাস্তি বাস্তবায়ন হলে দেশে আর দুর্ণীতি থাকবে না।

এসময় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, জহিরুল ইসলাম জহির, জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোঃ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন।

উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আখতার এমপি, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার শামীম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট লাকি আখতার, নাজনীন সুলতানা, মাহবুবুর রহমান লিপটন, মমতাজ উদ্দিন, মনির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অব. আব্দুস সালাম, আহসান আদেলুর রহমান আদেল, শফিকুল ইসলাম শফিক, এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু, সুলতান আহমেদ সেলিম, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, আমির হোসেন ভ‚ঁইয়া, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাস, নাছির উদ্দিন সরকার, হুমায়ুন খান, এনাম জয়নাল আবেদিন, আনিস উর রহমান খোকন, মাখন সরকার, কাজী আবুল খায়ের, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদকমন্ডলী বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ আখতার হোসেন দেওয়ান, এমএ সুবহান, জাকির হোসেন মৃধা, আলাউদ্দিন মৃধা, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, শহীদ হোসেন সেন্টু, হাফেজ ক্বারী ইসারুহুল্লাহ আসিফ, মীর সামছুল আলম লিপটন, কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ স্বপন, নাজমুল খান, শফিকুল ইসলাম দুলাল, আব্দুস সাত্তার, মানুল রাব্বি রুম্মন, ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান, জেসমিন নূর প্রিয়াঙ্কা আনোয়ার হোসেন খান, মোহাম্মদ আলী, মোখলেছুর রহমান বস্তু, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, গোলাম কাদির, আলমগীর হোসেন, আলাউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, মুুহিদ হাওয়াদার, প্রিন্সিপাল মোস্তফা চৌধুরী, মোঃ আছাদুল হক, সোলায়মান সামী, আব্দুল কুদ্দুস মানিক, ইলোরা ইয়াসমিন, শাহনারা আক্তার রীমা, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সালাউদ্দিন আহমেদ, শামীম আহমেদ রিজভী, শরিফুল ইসলাম শরিফ, এডভোকেট ওয়াহাব, মোঃ জাকির হোসেন, এমএ হাসেম, বজলুর রহমান মৃধা, মোঃ আলাল, মেহেদী হাসান শিপন, আব্দুর রহিম, মোড়ল জিয়াউর রহমান, নিজাম উদ্দিন সরকার, আনোয়ার হোসেন আনু, নিজাম, আব্দুল মোতালেব, আশরাফ খান।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর

প্রেস সেক্রেটারি-০২